হিজবুত তাহরির নিষিদ্ধকরণ ও আমার কিছু অনুমান

হিজবুত তাহরির নিষিদ্ধ করা নিয়ে গত কয়েকদিন অনেক লেখালেখি চোখে পড়লো। মিডিয়াতেও এটা বেশ ফোকাসড হয়েছে। একই সাথে আমরা জানলাম হিজবুত তাহরির নিষিদ্ধ করণের পেছনে সরকারের হাতে শক্ত কোন প্রমাণ নেই। আপাত দৃষ্টিতে হিজবুত তাহরির নিষিদ্ধকরণটা এক ধরনের ফ্যাসিবাদী আচরণ ছাড়া আর কিছুই নয়। এই বিষয়ে আমার নিজস্ব কিছু পর্যবেক্ষন রয়েছে। অল্প কথায় সেটাই তুলে ধরার চেষ্টা করবো। প্রথমেই হিজবুত তাহরির নিয়ে আমার কিছু পর্যবেক্ষন তুলে ধরি,

পর্যবেক্ষন-১) হিজবুত তাহরির নিজেদের ব্যতিত অন্যদের ভ্রান্ত মনে করে। তাদের বক্তব্যমতে তারাই সঠিক ইসলামের পথে আছে।
পর্যবেক্ষন-২) বর্তমান সমাজ ও রাস্ট্র ব্যবস্থা নিয়ে হিজবুত তাহরিরের অনেক অভিযোগ আছে ঠিকই কিন্তু এর কোন সমাধান তাদের কাছে নেই। এমনকি তাদের প্রচারিত ইসলামি খেলাফত কিভাবে কায়েম হবে সেটাও তাদের কাছে পরিষ্কার না।
পর্যবেক্ষন-৩) হিজবুত তাহরিরের উচ্চপর্যায়র নেতাদের বিষয়ে নিচের নেতা কর্মীরা তেমন কিছু জানে না। হিজবুত তাহরিরের কর্মীদের ভেতরে সত্যিকার ইসলাম প্রেম থাকলেও তারা আসলে কিসের পেছনে কার কি উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে জানে না।
পর্যবেক্ষন-৪) হিজবুত তাহরিরের সদস্যদের ভেতরে সত্যিকার ইসলাম সম্পর্কে তেমন পরিষ্কার ধারণা নেই।
পর্যবেক্ষন-৫) হিজবুত তাহরিরের ভেতরে পস্পর বিরোধীতা আছে। প্রায় ক্ষেত্রেই তাদের একটি বক্তব্য অন্যটির সাথে সাংঘর্ষিক।
পর্যবেক্ষন-৬) ইনটেলেকচ্যুয়ালি এরা এক্সট্রিমিস্ট। নিজেদের মতবাদের বাইরে অন্য কিছু টলারেট করার ক্ষমতা বা সেগুলো নিয়ে রিসার্স করার ক্ষমতা নাই।
পর্যবেক্ষন-৭) এরা যুক্তিতে না পারলে ব্যক্তিগত আক্রমন করে বসে (ইসলাম যা কোন ভাবেই সমর্থন করে না)।
পর্যবেক্ষন-৮) বাংলাদেশের অন্যসকল ইসলামিক দল বা সংগঠনের প্রতি এদের কোন শ্রদ্ধা নেই। ক্ষেত্র বিশেষে এরা অন্যদের আক্রমন করা থেকেও বিরত থাকতে পারে না।


হিজবুত তাহরির নিষিদ্ধ করার ফলে যা হয়েছে এবং যা হতে পারে-

পয়েন্ট-১: হিজবুত তাহরির নিষিদ্ধ। মিডিয়াতে আলোচনা।
ফলাফল: হিজবুত তাহরির ফোকাসড। পাবলিক সিম্প্যাথি প্রাপ্তি।

পয়েন্ট-২: হিজবুত তাহরিরকে নিষিদ্ধ করার পেছনে শক্ত কোন কারণ নেই।
ফলাফল: হিজবুত তাহরিরের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হতে পারে (বা সম্ভব)।

ক) পয়েন্ট ২ এর ফলাফলটা বাস্তবে ঘটলে যেটা হবে-
ক.১) হিজবুত তাহরিরের নামে যে এক্সট্রিমিজমের অভিযোগ ছিলো তা থেকে মুক্ত।
ক.২) আমজনতা জানবে শুধুমাত্র ইসলামিক সংগঠন হওয়ার কারণে হিজবুত তাহরিরকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো, এদের নামে কোন অভিযোগ প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি। এতে পাবলিক সিম্প্যাথি আরো বাড়বে।
ক.৩) আমজনতা হিজবুত তাহরিরের বিষয়ে খোঁজ খবর নিবে এবং হিজবুত তাহরিরের জনসংযোগ বাড়বে।
ক.৪) হিজবুত তাহরির পূর্বের চাইতে দ্বিগুন উৎসাহে তাদের কার্যক্রম চালাবে এবং যেহেতু তারা ধোয়া তুলসি পাতা টাইপ আইনগত ভিত্তি পেয়ে যাবে সেহেতু তাদের কার্যক্রম চালানো আগের চাইতে সহজ ও দ্রুতগতির হবে।

খ) পয়েন্ট ২ এর ফলাফল বাস্তবে না ঘটলে যা হতে পারে-
খ.১) হিজবুত তাহরির আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যাবে।
খ.২) পাবলিক যেহেতু জানছে হিজবুত তাহরিরের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ সরকার প্রমাণ করতে পারেনি সেহেতু আন্ডারগ্রাউন্ডে থেকেও তাদের জনসমর্থন পেতে সমস্যা হবে না।
খ.৩) সরাসরি সংগঠন হিসেবে তারা যেসকল কর্মকান্ড ঘটাতে সক্ষম হয়নি (আইনগত বাধার কারণে) আন্ডারগ্রাউন্ডে সহজেই তারা সেগুলো করতে পারবে।
খ.৪) হিজবুত তাহরিরের ইন্টেলেকচ্যুয়াল চরমপন্থা তাদের কর্মকান্ডে প্রকাশ পেতে শুরু করবে। ইসলাম সম্পর্কে প্রায় অজ্ঞ জনতার কাছেও সেটা হালাল বলেই গণ্য হবে।
খ.৫) 'জিহাদ' অভিধা দিয়ে ইসলামের নামে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়তে পারে সংগঠনটি।


উপরের পর্যবেক্ষন ও পয়েন্টগুলো পর্যালোচনা করলে যে ক'টি বিষয় সামনে আসে-
১) অন্যসকল ইসলামি দলগুলোকে দমন করার জন্য হিজবুত তাহরির আদর্শ অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারযোগ্য।
২) হিজবুত তাহরিরের মাধ্যমে সত্যিকার ইসলাম জানা ব্যক্তিদের কাছে ইসলাম আন্দোলনকে অসাড় প্রমাণ করা সম্ভব।
৩) "ইসলাম সন্ত্রাসী ও চরমপন্থা অবলম্বনকারীদের জীবন ব্যবস্থা" হিসেবে প্রমাণ করার জন্য যথার্থ টুল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।
৪) ইসলাম বিদ্বেষীরা ইসলামকে মেনিপুলেট করার আরো কিছু সুযোগ পাবে।
৫) হিজবুত তাহরিরকে ব্যবহার করে অন্যসকল ইসলামী শক্তি ও ব্যক্তিবর্গকে দমন করার পর হিজবুত তাহরিরকেও দমন করা যাবে সহজে। বা এদেরকে দমন না করলেও কোন সমস্যা হবে না, যেহেতু এদের আন্দোলনের বাস্তব কোন ফলাফল আসবে না।

এছাড়াও আরো কিছু অনুমান আছে। আরো কিছুদিন পর্যবেক্ষনর পর সেসব নিয়ে লেখার ইচ্ছে রইলো।

২৩ আল-কায়েদা বনাম বুশ ও জেএমবি বনাম হাসিনা

সম্প্রতি জেএমবি নামটা খুব বেশী শুনা যাচ্ছে। বিশেষ করে পিলখানার ঘটনার পর থেকে। জেএমবির উত্থান এবং জেএমবি কতৃক সিরিজ বোমা হামলার ঘটনাগুলো এত দ্রুত ঘটেছে যে সবাই হতবাক হয়ে গিয়েছে। এটা দিবালোকের মতই পরিষ্কার যে বাইরের কোন শক্তির সাহায্য ছাড়া জেএমবির মত বড় নেটওয়ার্ক তৈরি হওয়া কোন ভাবেই সম্ভব নয়। কথা হচ্ছে সেই বাইরের শক্তিটা কারা?

জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে জেএমবির সিরিজ বোমা হামলা নি:সন্দেহে জোট সরকারকে বিতর্কিত করেছে। ক্ষতি হয়ে বিএনপি-জামাত জোটের এবং এই ঘটনা থেকে লাভবান হয়েছে তৎকালীন বিরোধীদল তথা আজকের সরকারী দল আওয়ামীলিগ। আওয়ামীলিগ বরাবরই দাবী করে আসছে জেএমবি জোট সরকারের মদদে সৃষ্টি হয়েছে। অথচ এই জেএমবি জোট সরকারকে বিপাকে ফেলা ছাড়া আর তেমন কোন কাজেই আসেনি। জেএমবির সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় বাংলাদেশ ও তৎকালীন সরকারের ইমেজ বহি:বিশ্বে ব্যপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করার পাশাপাশি আওয়ামীলিগের বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারনায় ব্যপক রসদ জুগিয়েছে।

জেএমবির নেটওয়ার্ক তৈরিতে যে কোন বিদেশী শক্তি জড়িত সেটা বেশ পরিষ্কার। জেএমবির সিরিজ বোমা হামলার পর তদন্ত করে জানা গেল বোমাগুলো সব ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করেছে। ভারত এবং আওয়ামীলিগ যৌথ ভাবে দাবী করছে এই নেটওয়ার্কের পেছনে ইসলামী শক্তিগুলো রয়েছে। তাহলে সেই তথাকথিত ইসলামি শক্তি ভারতীয় পুরো গোয়েন্দা সংস্থা ও বিএসএফের দৃষ্টি এড়িয়ে কিভাবে দেশের ভেতরে বোমা হামলার প্রয়োজনীয় বস্তু সরবরাহ করে?

জেএমবির বড় আকারের হামলার পর জোট সরকার খুবই দ্রুত জেএমিবর শীর্ষ নেতাদের ধরে ফেলতে সক্ষম হয়েছে এবং তাদের উপযুক্ত শাস্তি ফাঁসি দেয়া হয়েছে। আমাদের অভ্যন্তরিন গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশ ও RAB-ই যথেষ্ট ছিলো এই কার্য সমাধা করার জন্য। কিন্তু বর্তমান সরকারের ভাষ্য মতে প্রায় ধ্বংস করে দেয়া এই নেটওয়ার্ক নির্মূল করতে নাকি বিদেশী শক্তির সাহায্য দরকার! দেশের যে সংস্থাগুলো অতীতে সাফল্যের সাথে এদের দমনে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে সমর্থ হয়েছিলো তাদের উপর এই সরকারের ভরসা এত কম কেন? নাকি বাংলাদেশে বিদেশী শক্তির হস্তক্ষেপটাই এখানে মূর্খ্য?

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুই বছরের শাসনামলে জেএমবি নেটওয়ার্ক যেন অনেকটা হাওয়ায় মিলিয়ে গেল। তারপর হঠাৎ করে ঠিক নির্বাচনের কয়েকদিন আগেই জেএমবি ঘোষণা করলো শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে হবে। কেন? জেএমবির নেতাদেরকে তো ফাঁসি দিয়েছিলো জোট সরকার। তারা প্রতিশোধ নিতে চাইলে বিএনপি-জামাত জোটের নেতাদের হত্যার হুমকি দিতে পারে.. তা না করে শেখ হাসিনাকে কেন? তাও আবার ঠিক নির্বাচন মূহুর্তে কেন? মনে পড়ে যায় বুশের বিন-লাদেন জুজুর কথা। বুশ প্রসাশন কোন কুকর্ম করার আগে বা নির্বাচনের আগে আগেই কোত্থেকে বিন লাদেন আবির্ভাব হয়ে একটা ভাষণ মেরে দিতো। মূর্খ বাঙালীর সামনে আমরা সেই পুরানো ট্রিকস আবার নতুন বোতলে দেখলাম মনে হচ্ছে।

আওয়ামীলিগ সরকার গঠনের পর হঠাঃ খুব দ্রুতই দেশের আইন শৃক্ষলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে গেল। আওয়ামী ছাত্র সস্থাগুলো এত ভয়ানক আকারে সন্ত্রাস আর নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে শুরু করলো যে অনেক গোড়া আওয়ামী সমর্থকও বিষয়টাকে সমর্থন দিতে পারলো না। এই সময়ে সরকার দাবী করলো তাদের সরকারের বয়স অল্প.. এত দ্রুত কিভাবে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করবেন? শান্ত একটা দেশে হঠাৎ করে তাদের সন্ত্রাসীরা যে পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে সেটার জন্য তারা আরো দুই বছর আগের সরকারকে দায়ী করলো। কি হাস্যকর যুক্তি...!

এর ভেতরে ঘটে গেল পিলখানার নির্মম ট্রাজেডি। সরকারের ব্যর্থতা আর সীমাহীন অবহেলা নিয়ে যখন সমালোচনা ওঠতে শুরু করলো ঠিক তখনি আবার জেএমবিকে দরকার হয়ে পড়লো। পিলখানার ঘটনার পর থেকেই আমাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও সাংসদরা ঘটনার দায় জেএমবির উপরে চাপাতে শুরু করলেন। দেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রন করা যাচ্ছে না, দোষ জেএমবির। ছাত্রলীগ ক্রমাগত সন্ত্রাস করে যাচ্ছে, দোষ জেএমবির। পিলখানার ঘটনায় সরকারের ব্যর্থতাও জেএমবির কাঁধে।

আজকে দৈনিক সমকালে 'সরকারকে আলাদা ইসলামী প্রদেশ দিয়ে সমঝোতায় আসতে হবে' শিরোনামে জেএমবির একটি নিউজ এসেছে। সেখানে দেখলাম জেএমবির চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমান্ডার জাবেদ ইকবাল ওরফে মোহাল্ফ্মদ বলেছেন, "জাতীয় সংসদ ভবন, প্রধানমন্পীর কার্যালয়সহ সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদার করে জঙ্গি হামলা রোধ করা যাবে না। শায়খ রহমান ও বাংলাভাইসহ অনেক জঙ্গি নেতাকে ফাঁসি দিয়েও জঙ্গিদের দমন করা যায়নি। এখনো প্রশিক্ষিত জঙ্গিরা গোপনে তৎপরতা চালাচ্ছে। জঙ্গিদের জন্য আলাদা প্রদেশ দিয়ে সেখানে ইসলামী আইন চালুসহ বিভিল্পম্ন দাবি মেনে নিয়ে সরকারকে সমঝোতায় বসতে হবে। এজন্য চট্টগ্রাম কারা সুপারের মাধ্যমে রাষ্দ্ব্রপতি ও প্রধানমন্পী বরাবরে তারা চিঠিও পাঠাবেন কয়েকদিনের মধ্যে।"
সৃত্র: http://www.shamokal.com/details.php?nid=106659

নিউজটির দিকে খুব ভাল ভাবে নজর করলেই কয়েকটি বিষয় খুব পরিষ্কার হয়ে ওঠে। লক্ষ্য করুন জেএমবি লিডারের নিজের মুখের বক্তব্য-

জেএমবির বক্তব্য:
ক) "জাতীয় সংসদ ভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদার করে জঙ্গি হামলা রোধ করা যাবে না।"

প্রাঙ্গিক ভাবনা:
ক.১) জেএমবির যদি জাতীয় সংসদ ভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গুপ্ত হামলার পরিকল্পনাই থাকে তাহলে তারা সেটা এভাবে ফলাও করে প্রচার করতে যাবে কেন? তাদের এই বক্তব্য কি গত কয়েক সপ্তা ধরে সরকারের বক্তব্যগুলোকেই শক্তিশালী করছে না যে সরকার জেএমবি কতৃক আক্রান্ত?

জেএমবির বক্তব্য:
খ) "শায়খ রহমান ও বাংলাভাইসহ অনেক জঙ্গি নেতাকে ফাঁসি দিয়েও জঙ্গিদের দমন করা যায়নি। এখনো প্রশিক্ষিত জঙ্গিরাগোপনে তৎপরতা চালাচ্ছে।".. আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে জাবেদ এসব হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে জাবেদ এসব কথা বলেন।

প্রাঙ্গিক ভাবনা:
খ.১) ইসলামী আন্দোলনকারীরা নিজেদের নেতাকে এভাবে 'জঙ্গি নেতা' বলে দাবী করে?
খ.২) জেএমবি গোপনে শক্তি সঞ্চয় করে থাকলে তাদের দমন করা যায়নি বলে অকারণে কেউ এভাবে নিজেদেরই তথ্য প্রকাশ করে?
খ.৩) গোপন তৎপরতার খবর কেউ এভাবে সবার সামনে দাঁড়িয়ে জানিয়ে দেয়?
খ.৪) আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ১৫ মিনিট ধরে এভাবে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করার বিষয়টি লক্ষ্য করুন।

জাবেদ আদালতকে আরো বলেন, "সারাদেশে যে আতংকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে তা বন্ধ হবে না। "... তার মানে সারাদেশের আইনশৃক্ষলা পরিস্থিতির অবনতি, ছাত্রলীগের সন্ত্রাস, পিলখানার ঘটনা সবকিছুর দায় জেএমবি স্বেচ্ছায় নিজের ঘাড়ে নিয়ে নিলো? আওয়ামীলিগের গত কয়েকসপ্তাহের প্রচারনাগুলোকে হালাল করতে? উল্লেখ্য পিলখানার ঘটনার তদন্তকারীরা দুইদিন আগেও বলেছে এই ঘটনায় তারা জেএমবির সংশ্লিষ্টতা পায়নি। এমতাবস্থায় সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের জেএমবি কানেকশন সম্পর্কিত বক্তব্যগুলোকে হালাল করার এর চাইতে আর উৎকৃষ্ট পদ্ধতি কী হতে পারে?

জেএমবি কারা এবং কাদের সুবিধামত কাজ করে যাচ্ছে ও কাদের স্বার্থ রক্ষায় বিভিন্ন বক্তব্য প্রদান করছে তা নিয়ে আমাদের আরো গভীর ভাবে ভাবতে হবে। আমরা চাই ইসলাম ও দেশের জন্য ক্ষতিকর এসব জেএমবি নেটওযার্কের সম্পূর্ন ধ্বংস এবং এরা যাদের স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছে তাদের বিচার।

অনলাইনে টাকা কামানোর সবচাইতে সহজ পন্থা

বিভিন্ন ওয়েব সাইট ও ইমেইল বক্সে দেখবেন সামান্য কিছু অর্থের বিনিময়ে অনেকে আপনাকে মাসে হাজার হাজার ডলার কামানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফেলে। আমার ধারণা ছিলো এইসব প্রতারকদের হাতে খুব সামান্য পরিমান মানুষই প্রতারিত হয়.. কিন্তু সম্প্রতি পরিচিত জনদের ভেতরে বেশ কয়েকজন প্রতারিত হওয়ার ঘটনা জানতে পারলাম। বিষয়টা নিয়ে ওযেব সার্চ আরো জানলাম যে এই ঠগ পার্টির হাতে ধরা খাওয়া মানুষের সংখ্যা একেবারেই কম নয়। যারা এরকম ধরা খাচ্ছেন তাদের মাথায় কেন এই চিন্তাটা আসে না যে এভাবে মাসে হাজার হাজার ডলার কামানো গেলে সেই পদ্ধতি আরেকজনকে শিখিয়ে কেউ সময় নষ্ট না করে নিজেরাই হাজার হাজার ডলার কামিয়ে নিতো। সত্যি, পৃথিবীটা বোকা মানুষে ভরপুর!

পৃথিবীটা বোকা মানুষে ভরপুর হলেও আমার নিজের দেশের মানুষের উপরে আমার ভালই আস্থা ছিলো এতদিন। সম্প্রতি সেই আস্থার দেয়ালে ফাঁটল ধরতে শুরু করেছে। বছর দুয়েক আগে এডসেন্স এবং ব্লগিং থেকে টাকা কামানো সম্পর্কিত কিছু টিউটোরিয়াল লিখেছিলাম। আশা ছিলো সাধারণের উপকারে আসবে.. তারা কিছু ডলার কামিয়ে দেশের রেমিটেন্সে কিছুটা হলেও অবদান রাখবে। টিউটোরিয়ালগুলো থেকে অন্তত টাকা কামানোর পদ্ধতির সাথে অনেক পরিচিত হয়েছে। এতে যে সবাই সফল হবে এমনও না.. কিন্তু চেস্টা করতে দোষ কী? যাই হোক.. সম্প্রতি খুব অবাক হয়েছি এইসব পদ্ধতির টিউটোরিয়াল নিয়ে শ্রেণীর মানুষকে ব্যবসা করতে দেখে। তারা এইসব সাধারণ টিউটোরিয়াল সিডিতে করে বাজারে ছেড়ে চড়া দামে বিক্রি করতে শুরু করেছে। কিছু সেমিনারওয়ালাও দেখলাম গজিয়ে উঠেছে। হাজার টাকা খরচ করে লোকজন সেই সেমিনারে গিয়ে টাকা বানানোর পদ্ধতি শিখে আসছে। যারা টাকা কামানোর পদ্ধতি শিখছে তারা টাকা কামাতে পারুক আর নাই পারুক সেমিনারওয়ালারা কিন্তু ঠিকই অনেক টাকা কামিয়ে নিচ্ছে। এটা এক ধরনের লোক ঠকানোর বানিজ্য ছাড়া আর কিছুই না। অথচ সকলের সামনেই চলছে এই কারবার। যেন কারোই কিছু বলার নেই...

তো এই ডিজিটাল ঠকবাজদের পাল্লায় যারা পড়েছেন তারা কিছু শিখতে না পারলেও একটা বিষয় কিন্তু শেখার কথা... সেটা হচ্ছে টাকা কামানোর পদ্ধতি অন্যকে শিখিয়ে কিভাবে টাকা কামানো যায়। আমি অনেক চিন্তা ভাবনা করে আরো আধুনিক আরো ডিজিটাল একটা পদ্ধতি বের করলাম। চলুন আমরা সেই পদ্ধতি শিখে ফেলি...

টাকা কামানোর সহজ পদ্ধতি:
- প্রথমে আপনি একটা ওয়েবসাইট খুলবেন বা পত্রিকায় বিজ্ঞাপণ দিবেন.. এই মর্মে যে- "এখানে টাকা কামানোর সহজ পদ্ধতি শেখানো হয়"।
- তারপর যারা টাকা কামানোর পদ্ধতি শিখতে আসবে তাদেরকেও পরামর্শ দিবেন এরকম টাকা কামানোর পদ্ধতি শেখানোর ট্রেইনিং সেন্টার দেয়ার জন্য। স্টুডেন্ট জোগার করতে পারলে নিশ্চিত ভাবেই তারা টাকা কামাতে পারবে।

কিভাবে টাকা কামানোর কথা বলে লোকজনের পকেট থেকে টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয়া যায় তা সকলে জেনে যাওয়ার আগেই সত্যিকার অর্থে কিছু লোক টাকা কামিয়ে ফেলতে পারবে। এটা অন্তত মন্দের ভাল.... হাজার টাকা ফি নিয়ে যে পদ্ধতি শেখানো হয় সেই পদ্ধতি থেকে অন্তত বেশী কার্যকরী।

জয়তু ধান্ধাবাজী!

http://prothom-aloblog.com/users/base/trivuz/136

সুমন রহমান এর 'সামহোয়্যারনামা ৪' এর প্রেক্ষিতে কিছু কথা (ত্রিভুজ)

ব্লগার সুমন রহমানের সামহোয়্যারনামা ৪ এর বিষয়বস্তুতে ত্রিভুজ আর তার ভার্চুয়াল যুদ্ধ বিষয়ক কিছু তথ্য এসেছে। তথ্যগুলোর বাস্তবিক তেমন কোন ভিত্তি না থাকলেও সুমন রহমানসহ আরো অনেক ব্লগার এগুলো বিশ্বাস করেন। এসব ধারনা ও তথ্য প্রচারে আমি সাধারণত বাঁধা দেই না... তবুও এবার আসল সত্যটা তুলে ধরার একটা ছোট্ট প্রয়াস নিচ্ছি... কোন বিষয়ে দ্বিমত থাকলে নির্দ্বিধায় তুলে ধরতে পারেন।

সুমন রহমানের লেখায় যে কয়েকটি বিষয় ফুটে ওঠেছে বলে মনে হলো(ভুল বুঝলাম কিনা তাও জানাতে পারেন)-
১) এ-টিম হল সামহোয়ারের প্রথম এলিট গ্রুপ যারা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তি হিসেবে কাজ করে।
২) ত্রিভুজ এর একটি দল রয়েছে যারা জামাত পন্থী।
৩) এটিমের মত হীন কৌশল অবলম্বন করতে ত্রিভুজও পিছপা হয়নি।
৪) এটিমের মত ত্রিভুজেরও রয়েছে দুর্ধর্ষ এবং আত্মঘাতী নিকস্কোয়াড।
৫) এসি-টিম প্রো-প্রগ্রেভ, প্রো-লিবারেশন, সেক্যুলার এবং বিজ্ঞানমনস্ক।
৬) ঐতিহাসিক ভাবে ত্রিভুজ এন্টি-লিবারেশন, প্রো-জামাত এবং প্রো-ইসলামী নেটওয়ার্কেই সময় কাটিয়েছে।
৭) এ-টিমকে গালির উপলক্ষ তৈরি করে দেয়াতে ত্রিভুজকে বা তার নেটওয়ার্ককে তৎপর দেখা গিয়েছে।
৮) এ-টিমের ব্লগারদের ব্যক্তিগত প্রসঙ্গের সত্যমিথ্যা ব্লগে প্রকাশ করে দেয়ার মাধ্যমে ইমেজ ডাউনসাইজ করার কাজ করে গিয়েছে ত্রিভুজ বা তার নেটওয়ার্ক, রিলিজিয়াসলি।
৯) উইকিপিডিয়ায় কন্ট্রিবিউট করতে গিয়ে ত্রিভুজ ধরা খেয়েছে।
১০) ত্রিভুজ আক্রান্ত হয়েছে সামহোয়ারে এবং অপরাপর কম্যুনিটি ব্লগগুলোতে।
১১) এটিমের আক্রমন ত্রিভুজকে কাহিল করতে না পারলেও "অশ্রু" নামের একটি নিক এই বিষয়ে সফল।
১২) ব্লগীয় রাজাকার ও ব্লগীয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে এটীম অন্য কিছু করার সময় পায়নি।

এই বারোটি পয়েন্টের বিষয়ে আমার বক্তব্য (অল্প কথায়):
১) আমার দৃষ্টিতে এটিম হলো সেই গ্রুপ যারা মুক্তিযুদ্ধ বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কলুষিত করেছে ব্লগে।
২) ত্রিভুজের কোন দল নাই। দল থাকলে ত্রিভুজের বিরুদ্ধে করা পোস্টগুলোতে প্রতিবাদের বন্যা দেখা যেতো.. সেরকম কিছু দেখা যায় না। এটিমের বিরুদ্ধে কিছু লিখলেই তেমনটা দেখা যায়। আর ত্রিভুজের রাজনৈতিক বা দলীয় অন্ধত্ব নাই। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রথম দিকে সকল রাজনৈতিক দল ও তাদের বেশীর ভাগ সমর্থকরা দূর্নীতি দমনের বিরুদ্ধে থাকলেও ত্রিভুজ সেই দুর্নীতি দমনকে স্বাগত জানিয়েছিলো। ত্রিভুজের পুরানো পোস্ট ঘাঁটলে আওয়ামীলিগ, বিএনপি ও জামাত সহ সকল দলেরই সমালোচনা পাওয়া যাবে।
৩) এটিমের মত কোন হীন কৌশল ত্রিভুজ গ্রহন করেছে সেটা পরিষ্কার করার জন্য লেখকের প্রতি ত্রিভুজের আহবান রইলো। অন্য ব্লগাররাও এগিয়ে আসতে পারেন..
৪) কিসের ভিত্তিতে এই বক্তব্য দিলেন? ত্রিভুজের দুর্ধর্ষ এবং আত্মঘাতী নিকস্কোয়াড এর কয়েকটা নিকের নাম বলার জন্য অনুরোধ রইলো।
৫) ওয়েব কমিউনিটিতে ট্রোলিং করা যদি প্রো-প্রগ্রেভ, প্রো-লিবারেশন, সেক্যুলার এবং বিজ্ঞানমনস্কতা হয় তাহলে আমার কিছু বলার নাই।
৬) ত্রিভুজ আরো অনেকের সাথেই সময় কাটিয়েছে। এটিমের আক্রমনের একটা কৌশল ছিলো ইসলাম নিয়ে লিখলেই কাউকে প্রথমে রাজাকার ঘোষণা করা তারপর আক্রমন করা। এই তথাকথিত রাজাকারদের আক্রমনের যেমন প্রতিবাদ ত্রিভুজ করেছে তেমনি স্বঘোষিত অনেক নাস্তিক ব্লগারকে আক্রমন করলেও ত্রিভুজ প্রতিবাদ করেছে। ব্লগে অসুস্থ এক চরিত্র 'মাহমুদুল হাসান রুবেল' এর 'মিথিলা নাটকের' পর যখন সবাই রুবেলের পিন্ডি চটকাতে ব্যস্ত তখন সেই স্রোতে গা না ভাসিয়ে ত্রিভুজ সবাইকে শান্ত হতেই আহবান জানিয়েছিলো। অথচ সেই রুবেল কিন্তু চরম এন্টি ত্রিভুজ গ্রুপেরই একজন একটিভ সদস্য! ট্যাগিং করার সময় এই বিষয়গুলো কেউ বিবেচনা করে নাই...
৭) ব্লগে ত্রিভুজের কোনরকম নেটওয়ার্ক নিয়ে ঘুরে না, আগেই বলেছি। এই অভিযোগ ভিত্তিহীন।
৮) এটিমের ব্লগারদের সত্য-মিথ্যা ব্লগে প্রকাশ করার মহান(!) দায়িত্ব কখনো ত্রিভুজকে পালন করতে দেখা যায় নাই। স্বঘোষিত মুক্তিযোদ্ধা ব্লগার অমি রহমান পিয়াল নিজের যৌবনজ্বালায় তার ৪০০০ এডাল্ড পোস্ট দেয়ার বিষয়টি ব্লগে সবাইকে জানিয়েছিলো। সেই সময়ে পর্নগ্রাফির পক্ষে অবস্থান নেয়া ব্লগারের সংখ্যাটাও নেহায়েত কম ছিলো না.. এ সম্পর্কিত একটি পরিসখ্যান ব্লগেই আছে। Click This Link
৯) এই বিষয়ে আমার দুটো পোস্ট ছিলো। লেখককে পড়ে দেখার অনুরোধ রইলো।
১০) এই তথ্যটা পুরোপুরি ঠিক নয়। ব্যক্তিগত ব্লগ সাইট, ইয়াহু গ্রুপ, গুগল গ্রুপ ইত্যাদিতে ত্রিভুজ বিরোধীরা প্রচারণা চালাচ্ছে বটে কিন্তু অন্য কমিউনিটিগুলোতে তারা এসব ট্রোলিং করার সুযোগ পায়নি। উদাহরণ হিসেবে প্রথম আলো ব্লগ কমিউনিটিতে ত্রিভুজের ব্লগ দেখে আসতে পারেন লেখক।
১১) অশ্রু নিকের মালিক এরকম দাবী করলেও এর কোন বাস্তবতা নেই। কেউ নোংরামী করে নিজেকে সফল দাবী করলেই সে সফল হয়ে যায় না এটা সুমন রহমান না বুঝতে পারলে আমার করার কিছু নেই।
১২) সামহোয়্যারইনে এটিমের মূল মিশন ছিলো ব্লগের পরিবেশ নষ্ট করা.. মুক্তিযুদ্ধ বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে কাজ করা না। ব্লগের বেশীর ভাগ তথাকথিত রাজাকারী নিকগুলোও মালিকও এরা। এই বিষয়ে গত তিন বছরে আমি একাধিক পোস্ট দেয়ার পরেও তারা এই কাজগুলো চালিয়ে গিয়েছে। সম্প্রতি তাদের দলেরই একজন ঘটনাগুলো ফাঁস করে দেয়। Click This Link

ত্রিভুজ এর বিষয়ে এসব ভ্রান্ত ধারনার জন্য ত্রিভুজ কখনো অন্যকে তেমন ভাবে দায়ী করে না। মূলত ত্রিভুজের বিরুদ্ধে ব্লগে এবং ব্লগের বাইরে অনেক রকম অপপ্রচার রয়েছে। ত্রিভুজের এমন অনেক বন্ধু রয়েছে যারা আগে এসব অপপ্রচারে কান দিয়ে ত্রিভুজকে খারাপ জানতো... পরে তারা ত্রিভুজের বেশ ভাল বন্ধু হিসেবেই ত্রিভুজের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে। এরকম একজনের সাথে ম্যাসেঞ্জারে হওয়া আলাপের কিছু অংশ প্রাসঙ্গিক মনে হওয়ায় তুলে ধরছি-

জনৈক বন্ধু: তোমার নামে ব্লগে আর ব্লগের বাইরের অপপ্রচারগুলো নিয়ে কিছু বলো না কেন?
ত্রিভুজ: বললে কী হতো?
বন্ধু: বললে সবাই সবার ভুল বুঝতে পারতো.. তারা তোমাকে খারাপ মনে করতো না।
ত্রিভুজ: নিজের বিবেক বুদ্ধি প্রয়োগ না করে যারা অন্যের কথায় বিশ্বাস করে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে তাদের কাছে ভাল হওয়ার কোন ইচ্ছে নাই.. মূর্খদের কাছ থেকে দূরে থাকা উত্তম।
বন্ধু: তারা যে সবাই মূর্খ এমনও তো না.. ব্লগে তারা অনেক ভাল ভাল কাজ করতেছে। যুদ্ধাপরাধীর বিচার নিয়ে করা কাজগুলো তার ভেতরে অন্যতম।
ত্রিভুজ: যুদ্ধাপরাধীর বিচার নিয়ে অনেক ভাল ক্যাম্পেইন হচ্ছে বটে.. আমিও সেটা সমর্থন করি। কিন্তু এদের বেশীর ভাগই হলো সুবিধাবাদী চরিত্র... তাদেরকে ভাল মনে হওয়ার কারণ কী?
বন্ধু: খারাপ মনে হওয়ারই বা কারণ কী?
ত্রিভুজ: যুদ্ধাপরাধীর বিচার নিয়ে যারা নাচতেছে তাদের গিয়ে বলো সকল দূর্ণীতিবাজদের বিরুদ্ধে এধরনের একটা ক্যাম্পেইন করতে পারবে কিনা.... কাউকেই পাবে না। নিজের প্রিয় দলের সমালোচনা করতে বলো.. কেউ এগিয়ে আসবে না... দেশ এদের কাছে কোন ফ্যাক্টই না..
বন্ধু: তবুও তুমি নিজের আত্মপক্ষ সমর্থন করে কিছু লিখতে পারো। আমার মনে হয় লেখা উচিত।
ত্রিভুজ: আত্মপক্ষ সমর্থন করতে হবে কেন? সবাই তো আমার কাজকর্ম দেখতেই পাচ্ছে... যারা নিজের বিচার বিবেচনার চাইতে অন্যের কথার উপরে বেশী ভরসা করে তাদের কাছে ভাল হওয়ার কোন ইচ্ছে আমার নাই। তবুও আমার বিষয়ে অপপ্রচারের জবাবে একবার পোস্ট দিয়ে সবাইকে প্রমাণ করে যেতে বলেছিলাম। সেখানে তো কেউ কিছু লিখতে পারলো না... এরপর আর বলার কী আছে?

যাই হোক, সত্যিকার অর্থেই ত্রিভুজ তার নামে বাতাসে ভেসে বেড়ানো নানারকম অপপ্রচারে বিচলিত নয়। সত্যিকার বুদ্ধিমান ও প্রাজ্ঞাবানরা কখনো এসবে কান দেয় না.. যারা দেয় সেইসব মূর্খদের নিয়ে ভাবার সময় ত্রিভুজের নাই।

সবাইকে ধন্যবাদ। আর সুমন রহমান এর সামহোয়্যারনামার পরের পর্বের জন্য অপেক্ষায় রইলাম।

BBC's All Time Top 100 Best Novels

1984, George Orwell
A Christmas Carol, Charles Dickens
A Prayer For Owen Meany, John Irving
A Tale of Two Cities, Charles Dickens
A Town Like Alice, Nevil Shute
Adventures Of Huckleberry Finn, Mark Twain
Alice’s Adventures in Wonderland, Lewis Carroll
Animal Farm, George Orwell
Anna Karenina, Leo Tolstoy
Artemis Fowl, Eoin Colfer
Black Beauty, Anna Sewell
Brave New World, Aldous Huxley
Brideshead Revisited, Evelyn Waugh
Bridget Jones's Diary, Helen Fielding
Captain Corelli's Mandolin, Louis de Bernieres
Charlie And The Chocolate Factory, Roald Dahl
Crime and Punishment, Fyodor Dostoyevsky
David Copperfield, Charles Dickens
Don Quixote, Miguel De Cervantes
Dracula, Bram Stoker
Dubliners, James Joyce
Emma, Jane Austen
Eugenie Grandet, Honore de Balzac
Frankenstein, Mary Shelley
Gone with the Wind, Margaret Mitchell
Good Omens, Terry Pratchett and Neil Gaiman
Goodnight Mister Tom, Michelle Magorian
Great Expectations, Charles Dickens
Grimm's Fairy Stories, The Grimm Brothers
Gulliver's Travels, Jonathan Swift
Heidi, Johanna Spyri
Holes, Louis Sachar
Jane Eyre, Charlotte Brontë
Kane And Abel, Jeffrey Archer
Les Misérables, Victor Hugo
Little Women, Louisa May Alcott
Lord Of The Flies, William Golding
Love In The Time Of Cholera, Gabriel García Márquez
Madame Bovary, Gustave Flaubert
Memoirs Of A Geisha, Arthur Golden
Memoirs of Fanny Hill, John Cleland
Memoirs of Sherlock Holmes, Sir Arthur Conan Doyle
Metamorphosis, Franz Kafka
Middlemarch, George Eliot
Midnight's Children, Salman Rushdie
Moby Dick, Herman Melville
Northanger Abbey, Jane Austen
Nostromo, Joseph Conrad
Notes from the Underground, Fyodor Dostoevsky
Of Mice And Men, John Steinbeck
Oliver Twist, Charles Dickens
One Hundred Years Of Solitude, Gabriel García Márquez
Paradise Lost, John Milton
Persuasion, Jane Austen
Pinocchio, Carlo Collodi
Pride and Prejudice, Jane Austen
Rebecca, Daphne du Maurier
Siddhartha, Hermann Hesse
Tales of Terror and Mystery, Sir Arthur Conan Doyle
Tess of the d'Urbervilles, Thomas Hardy
The Adventures of Tom Sawyer, Mark Twain
The Call of the Wild, Jack London
The Catcher in the Rye, J.D. Salinger
The Colour Of Magic, Terry Pratchett
The Count of Monte Cristo, Alexandre Dumas père
The Da Vinci Code, Dan Brown
The Great Gatsby, F. Scott Fitzgerald
The Hitchhiker's Guide to the Galaxy, Douglas Adams
The Jungle Book, Rudyard Kipling
The Jungle, Upton Sinclair
The Last of the Mohicans, James Fenimore Cooper
The Legend of Sleepy Hollow, Washington Irving
The Lion, the Witch and the Wardrobe, CS Lewis
The Lord of the Rings, J.R.R. Tolkien
The Lost World, Sir Arthur Conan Doyle
The Moonstone, Wilkie Collins
The Phantom of the Opera, Gaston Leroux
The Picture of Dorian Gray, Oscar Wilde
The Pilgrim's Progress, John Bunyan
The Pillars Of The Earth, Ken Follett
The Provost, John Galt
The Ragged Trousered Philanthropists, Robert Tressell
The Return of Sherlock Holmes, Sir Arthur Conan Doyle
The Scarlet Letter, Nathaniel Hawthorne
The Stand, Stephen King
The Strange Case of Dr. Jekyll and Mr. Hyde, Robert Louis Stevenson
The Thirty-Nine Steps, John Buchan
The Thorn Birds, Colleen McCollough
The Turn of the Screw, Henry James
The War of the Worlds, H. G. Wells
The Wind in the Willows, Kenneth Grahame
The Wonderful Wizard of Oz, L. Frank Baum
To Kill a Mockingbird, Harper Lee
Treasure Island, Robert Louis Stevenson
Twenty Thousand Leagues under the Sea, Jules Verne
Ulysses, James Joyce
Vanity Fair, William Makepeace Thackeray
War and Peace, Leo Tolstoy
Watership Down, Richard Adams
Wuthering Heights, Emily Brontë

Download Link
http://rapidshare.com/files/172213919/top100.part1.rar
http://rapidshare.com/files/172222524/top100.part2.rar
http://rapidshare.com/files/172223766/top100.part3.rar

অবশেষে সাফল্যের পথে আওয়ামীলিগ! অভিনন্দন!!

আগের টার্মে আওয়ামীলিগ সরকারের শেষের দিকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন বাংলাদেশে আসলেন । এর আগে থেকেই আওয়ামীলিগ প্রচার করে আসছিলো যে বাংলাদেশ আফগানিস্তান হয়ে ওঠছে। ক্লিনটনের বাংলাদেশ সফরের সময় সেই প্রচারনা এতই জোরালো হলো যে আমাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে ক্লিনটনের সাথে আমরা বসার আগেই তিনি জান নিয়ে পালালেন। ক্ষতিগ্রস্থ হলো বাংলাদেশের জনগণ।

আমেরিকা গিয়ে আমাদের মহান নেত্রী শেখ হাসিনা প্রচার করে এলেন বাংলাদেশে তালেবান আর আলকায়েদায় ভরপুর। এক প্রচারণাতেই বাংলাদেশকে ব্ল্যাক লিস্টেড করা হলো। পরে হিলারী ক্লিনটনের লবিং এ বাংলাদেশ সেই বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছিলো। তবে ততদিনে প্রবাসী বাংলাদেশীদের জীবন অতিষ্ঠ।

তারপরের ইতিহাস সবাই জানেন। ক্রমাগত দেশের নামে বিদেশে দূর্নাম রটিয়ে আসছে আমাদের মহান নেত্রী হাসিনা ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। উদ্দেশ্য একটাই, আফগানিস্তানকে আমেরিকা যেভাবে ট্রিট করছে বাংলাদেশকেও যেন সেভাবে করা হয়।

ক্ষমতায় যাওয়ার কিছুদিন আগেও আমাদের মহান হাসিনা পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় এক আমেরিকান সেনা কর্মকর্তাকে সাথে নিয়ে হার্বাডে থিসিস প্রকাশ করে দিলেন যে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীতে ইসলামিস্ট(Islamist) দ্বারা ভরপুর হয়ে গিয়েছে। দেশের স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল সবই নাকি ইসলামিস্ট ও তালেবানী সন্ত্রাস রোগে আক্রান্ত। ইসলামিস্টরা নাকি হসপিটালে ভাল ব্যবহার করে দেশের মানুষের ব্রেইন ওয়াশ করে দিচ্ছে। স্কুল কলেজে ইসলামিস্ট বেড়ে যাচ্ছে... দেশে বোরখা বিক্রি বৃদ্ধি পাওয়া নাকি এর অন্যতম বড় প্রমাণ। সুতরাং ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশ সোনাবাহিনী ও বাংলাদেশ থেকে ইসলামিজমের ভূত তাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে দিলেন। ইসলামিস্ট দের দেখে নেয়ার প্রকাশ্য অঙ্গীকার সেই থিসিসে ছিলো।

আওয়ামীলিগ ক্ষমতায় এলো। এসেই ভারতের দীর্ঘদিনের একটা ভিত্তিহীন অভিযোগকে হাসিনা সরকার স্বীকার করে নিলেন। ভারতের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালানোর দূর্নামের ভাগী হলাম আমরা। এই সন্ত্রাস দূর করতে ভারতীয় বাহিনীকে নিয়ে আঞ্চলিক টাস্কফোর্স গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করলেন তারা। স্বভাবতই বিরোধীদল এবং দেশের জনগন এটাকে ভাল চোখে দেখছিলো না। সরকার উপলদ্ধি করলো ভারতের আজ্ঞাবহ হওয়াটা যতটা সহজ ভেবেছিলেন ব্যপারটা আসলে ততটা সহজ নয়।

এরপর ঘটে গেল পিলখানা ট্রাজেডি। পিলখানার ঘটনার দিন থেকেই ভারত আবার নতুন উদ্যমে এই ঘটনা কারা ঘটিয়েছে তা প্রচার করে দিলো। ঘটনার দিন থেকেই এর পেছনে কারা দায়ী তা নিয়ে নানরকম ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করতে শুরু করলেন আমাদের বানিজ্যমন্ত্রী(!) ...! ধীরে ধীরে ভারতের সাথে সুর মেলাতে শুরু করলো আমাদের সরকারও... মিডিয়ার শক্তি ব্যবহার করে মোটামুটি স্ট্যাবলিশ করার গেল যে এটা সেই তথাকথিত সন্ত্রাসীদের কাজ যাদের দমন করতেই আওয়ামীলিগ এতদিন ধরে এত তদ্বীর করে আসছে। সুতরাং ভারতের সাথে আঞ্চলিক সন্ত্রাস দমন টাস্কফোর্স করতে আর বাঁধা কোথায়!

এর ভেতরে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ঘটেছে যেটা আমাদের বিবেকবান মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষন করতে তেমন একটা সমর্থ হয়নি। পিলখানার ঘটনার পরপরই সজীব ওয়াজেদ জয় আল-জাজিরায় একটা বিবৃতি দিয়ে দিলেন। সেখানে তিনি নিজেকে বাংলাদেশ সরকারের আন-অফিসিয়াল এডভাইজার হিসেবে নিজেকে দাবী করেছেন।

এর ভেতরে আমাদের মহান প্রধানমন্ত্রী বিদেশী পত্রিকাতে প্রচার করে দিলেন বাংলাদেশে সন্ত্রাস এত বেড়ে গিয়েছে যে তার নিজেরই কোন নিরাপত্তা নাই। পরোক্ষভাবে দাদাদের হস্তক্ষেপ কামনা করা হলো বলতে গেলে। এর ভেতরে আব্দুল গাফফার চৌধূরী নামের আওয়ামী বুদ্ধিজীবি আবার নতুন করে বিবৃতি দিতে শুরু করলেন। সেই আব্দুল গাফফার চৌধূরী যিনি কয়েক বছর আগে ভারতকে অনুরোধ করেছিলেন বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সামরিক হস্তক্ষেপ করার জন্য। সরকার দেখলাম তাকে এবার নানারকম পুরুষ্কারেও ভূষিত করতে যাচ্ছে এসব মহান অবদানের জন্য।

সংসদ ভবন হতে শুরু করে সর্বত্র যখন সরকার দলীয়রা কোন রকম তদন্ত ছাড়াই বিবৃতি দিয়ে ঘটনার পেছনের ঘটনা ফাঁস করে দেয়ার মহান দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন তখনি বেরসিক RAB গিয়ে ধরলো আওয়ামীলিগেরই একজন নেতাকে। তার কাছ থেকে নাকি অনেক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে.. তবে সেগুলো জনগণ জানতে পারবে কিনা সেটা প্রশ্নসাপেক্ষ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ সরকারী মাধ্যম ও মিডিয়া ততক্ষনে প্রচার করে দিয়েছে এই ঘটনার মূলে আছে জেএমবি। সেই জেএমবি, যার শীর্ষস্থানী লিডার ছিলেন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরম-আত্মীয়। সম্প্রতি জানা গেল পিলখানার ঘটনা সমাধান করতে যে মির্জা আজমকে পাঠানো হয়েছিলো তিনিও নাকি শায়খ আব্দুর রহমানের আত্মীয়। কাকতাল না বকতাল?

যাই হোক, শেষ পর্যন্ত.... আজকে ১৯ মার্চ, ২০০৯ ভারতে সিআইএ'র প্রধান লিওন প্যানেট্টা ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করেছেন মর্মে খবর পাওয়া গিয়েছে। বার্তাসংস্থা শিনহুয়া ও রয়টার্স ভারতীয় সংবাদ সূত্রের বরাত দিয়ে বলেছে, এসব আলোচনায় পাকিস্তান , আফগানিস্তান এবং বাংলাদেশের পরিস্থিতি স্থান পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। আমেরিকার সেই তথাকথিত সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধের তালিকায় আফগানিস্তান ও ইরাকের পর এবার বাংলাদেশের নামটাও যুক্ত হয়ে গেল।

এতদিনে আওয়ামীলিগের বাংলাদেশ বিরোধী অপপ্রচারগুলো সফল হতে যাচ্ছে। আওয়ামীলিগকে অগ্রিম অভিনন্দন....!

মোবাইল ইন্টারনেট: ডায়ালআপ কানেকশন তৈরি - ২

আগের পর্বে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা ডায়ালআপ কানেকশন কিভাবে বানাবেন তা নিয়ে লিখেছিলাম। এই পর্বে মোডেমের ম্যাক্সিমাম কানেক্টিভিটি স্পিড পরিবর্তন করার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হবে।

আপনার বন্ধু যে সেট ব্যবহার করে 900 kbps এ কানেক্ট করে, সেই একই সেট ব্যবহার করে আপনি হয়তো 115 kbps-তে কানেক্ট করেন। এর জন্য দায়ী আপনার মোডেমটির ম্যাক্সিমাম স্পিড সেটাপ। এটি বাড়াতে নিচের ধাপগুলো অনুসরন করুন।

১) আগের পর্বে যেভাবে কানেকশন বানানোর কথা বলা আছে সে অনুযায়ী একটি কাস্টম কানেকশন তৈরি করুন।
২) কন্ট্রোল প‌্যানেল থেকে Network Connections ওপেন করুন। (অথবা এড্রেসবারে Network Connections লিখে এন্টার দিলে ওপেন হবে।)
৩) আপনার তৈরি কানেকশনটির উপরে মাউসের ডান বাটন ক্লিক করে Properties সিলেক্ট করুন। (প্রথম চিত্রে দেখুন।)

৪) Configure বাটনে ক্লিক করে Modem Configuration-এ ওপেন করুন।


৫) Maximum Speed-এ সর্বোচ্চ যতটুকু দেয়া যায় দিয়ে ওকে করুন।


অত:পর কানেক্ট করে নেটওয়ার্ক আইকনে ক্লিক করে দেখুন আপনার কানেকশন স্পিড কেমন। উল্লেখ্য, ৯২১.৬ kbps-তে কানেক্ট করা মানেই আপনি ৯২১.৬ kbps স্পিড পাবেন তা নয়। (যেমন আমার ফোনে সর্বোচ্চ ৯২১.৬ kbps সেট করা যায়.. তবে নেটের স্পিডে এলাকার নেটওয়ার্কের উপর নির্ভর করে। স্থানভেদে গ্রামীণে ২-৪০ কেবি/সে. পর্যন্ত পাওয়া যায়।)

একটি বিষয় অনেকেই বুঝতে ভুল করেন... Kbps এবং KBps কিন্তু এক নয়। ১১৫ Kbps মানে ১১৫ KBps (কিলোবাইট/সেকেন্ড) নয়!
bps = bits per second
Bps = Bytes per second
8 bit = 1 Byte
So, 115 Kbps = 14.37 KBps

ধন্যবাদ।

মোবাইল ইন্টারনেট: ডায়ালআপ কানেকশন তৈরি-১


অনেকেই আছেন যারা মোবাইল কোম্পানীগুলোর নেট ব্যবহার করে ইন্টারনেটে আসছেন। মোবাইল ফোনের বিল্টইন মডেম বা আলাদা জিপিআরএস/এজ্‌ মডেম সেটাপ করে নেটে কানেক্ট করছেন। এই মডেমগুলো সহজে ব্যবহার করার জন্য মডেম বা ফোনের সাথে আলাদা কিছু সফটওয়্যার থাকে যাদের বেশীর ভাগই বাগ ভর্তি। এসব সফটওয়্যার ব্যবহারের কারনে আপনার সিস্টেম আনস্ট্যাবল হয়ে পড়ছে... মবি ডাটা নামের একটি মডেমের সাথে দেয়া সফটওয়্যার ব্যবহার করতে গিয়ে অনেক হাই কনফিগার সিস্টেমও হ্যাং হয়নি এরকম ব্যবহারকারী একজনও খুঁজে পাওয়া যাবে না। অথচ আপনি একটি কষ্ট করে একটি ডায়ালআপ কানেকশন তৈরি করে নিলেই খুব সহজে কোনরকম ঝক্কি ছাড়াই নেটে কানেক্ট করতে পারেন।

এজ্‌ বা জিপিআরএস মডেমের (ফোনের সাথে দেয়াগুলো বা আলাদা) ডায়াল-আপ কানেকশন কিভাবে ব্যবহার করবেন তা স্টেপ বাই স্টেপ দিচ্ছি-

১) মডেমটি সিস্টেমে কানেক্ট করে Start > Control Panle > Network Connections ওপেন করে Create New Connection এ ক্লিক করুন। (চিত্র -১ দেখুন)

২) নিউ কানেকশন উইজার্ডে Connect to the internet সিলেক্ট করে নেকস্ট করুন। (চিত্র-২)


৩) Set up my connection manually সিলেক্ট করু নেকস্ট করুন। (চিত্র-৩)


৪) Connect using a dial-up modem সিলেক্ট করে নেকস্ট করুন। (চিত্র-৪)


৫) এবার আপনার পিসিতে কানেক্টেড মডেমগুলোর লিস্ট দেখাবে। সেখান থেকে আপনার এজ্‌/জিপিআরএস মডেমটি সিলেক্ট করুন। (চিত্র-৫)


৬) ISP Name এ যেকোন কিছু লিখে নেকস্ট করুন।


৭) Phone Number এ আইএসপি ডায়াল আপ নাম্বারটি (হান্টিং নাম্বার বলা হয় অনেক ক্ষেত্রে) লিখুন। গ্রামীন ফোনের ক্ষেত্রে এটি নিন্মরুপ-
*99***1# বা *99#


৮) ইউজারনেম পাসওয়ার্ড বক্স যেমন আছে তেমনটি রেখেই নেকস্ট করে দিন। সাধারন আইএসপি'র ক্ষেত্রে এখানে আপনার ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার কতৃক দেয়া ইউজার নাম ও পাসওয়ার্ড দিতে হয়। (চিত্র-৮)


৯) Add a shortcut to the connection to desktop চেক করে Finish করুন। (চিত্র-৯)


এবার ডেক্সটপে গেলেই দেখতে পাবেন ৬নং ধাপে দেয়া নামে একটি আইকন চলে এসেছে। এটি দিয়ে সহজেই কোন ঝক্কি ছাড়া আপনি কানেক্ট করতে পারবেন। মবিডাটা বা আপনার মোডেমের সফটওয়্যারটির আইকনটি ডেস্কটপ থেকে ঝেটিয়ে বিদায় করুন এবার।

---
অনেকসময় এই শর্টকাটটি দিয়ে সরাসরি নেটে কানেক্ট করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে পারেন। সেরকম কিছু হলে নিচের ধাপগুলো প্রয়োগ করুন-

১) ডেস্কটপে মাইকম্পিউটার আইকনের উপর রাইট বাটন ক্লিক করে Properties ক্লিক করে System Properties ওপেন করুন।


২) Hardware ট্যাবে গিয়ে Device Manager বাটনে ক্লিক করে ডিভাইস ম্যানেজার নিয়ে আসুন। (এটি আপনি কন্ট্রোল প‌্যানেল থেকেও আনতে পারেন।) (চিত্র-১০)


৩) ডিভাইস ম্যানেজার থেকে আপনার মডেমটি খুঁজে বের করে সিলেক্ট করুন এবং মাউসের ডান বাটন ক্লিক করে Properties দিন। (চিত্র-১১)


৪) মোডেম Properties-এ অবস্থিত Advanced ট্যাবে গিয়ে Extra initialization-এর ঘরে নিচের লাইনটি বসান- (চিত্র-১২)
AT+CGDCONT=1,"IP","gpinternet" অথবা, +CGDCONT=,,"gpinternet"
(গ্রামিন ফোনের জন্য প্রযোজ্য)


৫) ওকে করে বের হয়ে আসুন এবং কানেক্ট করুন।

Remove blogger border

আমাদের অনেকেই ব্লগস্পটে ব্লগিং করেন। ব্লগ স্পটে ব্লগ ওপেন করার পর দেখবেন আপনার ব্লগের উপরে একটা বর্ডার দেখা যায় যা অনেকের কাছেই দৃষ্টি কটু লাগতে পারে। এই বর্ডারটা চাইলেই আপনি বাদ দিয়ে দিতে পারেন। এর জন্য নিচের পদ্ধতি অনুসরণ করুন-

১) ব্লগারে লগইন করে Dashboard থেকে Layout এ ক্লিক করুন।
২) Layout থেকে Edit HTML এ ক্লিক করুন.. Template এডিটর ওপেন হবে।
৩) এডিটরে #header-wrapper লেখাটি খুঁজে বের করে border:1px কে পরিবর্তন করে border: 0px করুন। কোডটুকু নিচের মত দেখাবে,
#header-wrapper {
width:660px;
margin:0 auto 10px;
border:0px solid $bordercolor;
}

৪) এবার #header অংশে অবস্থিত border: 1px পরিবর্তন করে border: 0px করুন। কোডটুকু নিচের মত দেখাবে,
#header {
margin: 5px;
border: 0px solid $bordercolor;
text-align: center;
color:$pagetitlecolor;
}

(পরিবর্তন করা অংশটুকু বোল্ড করে দেখানো হয়েছে।)
ছবিতে দেখুন-



এবার নিচের অংশটুকু যুক্ত করুন-
#navbar-iframe {
height:0px;
visibility:hidden;
display:none
}


৫) SAVE TEMPLATE এ ক্লিক করে বের হয়ে আসুন।

---
কম্পিউটার গ্রুপে প্রকাশিত।

Google Chrome, বিপদজনক একটি ব্রাউজার!

বড় কোম্পানীগুলোর সুবিধাটাই এই যায়গায়... যাই'র রিলিজ করুক না কেন, সেটা নিয়ে হৈ চৈ হতে বাধ্য... Google Chrome নিয়েও হচ্ছে.. স্বাভাবিক। সবাই এই স্রোতে গা ভাসিয়ে রিভিউ লিখতে শুরু করেছে.. প্রয়োজনীয় তথ্য কারো হাতেই নেই তেমন... গুগল যা বলছে সেটাকেই নানারকম রঙ চড়িয়ে বলে যাচ্ছে। আমি নিজেও তাড়াহুড়া করে গুগলের ওয়েব থেকে ওদের বক্তব্য কপি পেস্ট করে দিয়ে একখান পোস্ট মেরে দিয়েছি। সার্চ ইঞ্জিনে এখন এটা হট ইস্যু... না করে পিছিয়ে থাকবো কেন!

তো যাই হোক, ব্লগার আশাবাদী একটা চমৎকার রিভিউ দিয়েছেন। তাই রিভিউ লিখে সময় নষ্ট করছি না। শুধু নিজের অভিজ্ঞতা/মতামত শেয়ার করার জন্য এই পোস্ট...।

প্রথমেই একটা টেকনিক্যাল ইস্যু:
Google Chrome-এ এ্যাপলের WebKit ও Mozilla's Firefox-এর কম্পোনেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। (আঁতলরা এবার গুগলকে নিজের কিছু করার উপদেশ দিয়ে না বসলেই হয়.. B-))

Google Chrome, যা যা ভাল লাগলো:
- ইন্টারফেসটা ভাল লেগেছে। মেনুবার আর টুলবার জিনিষটা বোরিং হয়ে গিয়েছিলো মনে হয়.. তাছাড়া ওয়েব ব্রাউজিং করতে গিয়ে ঐসব মেনু আর টুলবার আমরা কতটুকু ব্যবহার করি সেটাও ভেবে দেখার বিষয়।
- টেক্সটবক্স রিসাইজ করা যায়। ত্রিভুজ প‌্যাডের পরের ভার্সনে টেক্সট বক্স রিসাইজের সুবিধা যুক্ত করবো ভাবছিলাম.. ব্রাউজারগুলেই এই অপশন রেখে দিলে কষ্ট কমে যায় আমাদের।
-

Google Chrome, যা ভাল লাগেনি:
১) স্লো... মনে হলো মজিলা থেকে অনেক ধীর গতির.. যদিও গুগল বিপরীতটা দাবী করেছে।
২) জাভাস্ক্রিপ্ট ঠিক মত কাজ করে না.. যদিও গুগল দাবী করেছে এটায় জাভাস্ক্রিপ্ট বেশী ভাল কাজ করবে।
৩) অটো আপডেট বন্ধ করার কোন উপায় নেই..


অল্প কিছুক্ষন ব্রাউজারটা ব্যবহার করে যা পেলাম তাই তুলে দিলাম... ওভারঅল ভালই লেগেছে.. তবুও আমি এটি ব্যবহার করতে যাচ্ছি না আপাতত.. কারণ এতে অটো আপডেট বন্ধ করার কোন উপায় নেই.. এটা খুবই বাজে একটা বিষয়... আমার পিসিতে একটা সফটওয়্যার চলছে যা যেকোন সময় যেকোন রকম আপডেট করার অধিকার একটা কোম্পানীর হাতে থাকবে..... তারা চাইলেই যেকোন সময় ছোট একটা আপডেট পাঠিয়ে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য সব চুরি করে নিয়ে যেতে পারবে..... বিশেষজ্ঞরা এটা নিয়ে হৈ চৈ শুরু করার আগেই হয়তো আরেকটা আপডেট পাঠিয়ে তথ্য চুরি করার মডিউলটি বাতিল করে দিবে.. ধরার কোন উপায়ই থাকবে না! বিভিন্ন জোনের জন্য আলাদা আলাদা আপডেট পাঠালে তো মোটেও ধরা খাবে না... কি ভয়াভয় ব্যপার!

তো এই একটা কারণে আপাতত গুগলের এই ব্রাউজারটিকে আমার কাছে বিপদজনক মনে হয়েছে। Google Chrome-কে একধরনের ব্যাক ডোর/ট্রোজান হর্স (অনেকের মতে ভাইরাস) বললে অত্যুক্তি হবে না বোধকরি।

TRIVUz's Fan Box

Blog Archive

Followers